সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে এক কিশোরের পোড়া ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার ভবদিয়া গ্রামের একটি মাল্টাবাগানের কাছে ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কিশোরের নাম মিনহাজুল ইসলাম (১২)। সে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব ভবদিয়া গ্রামের আজাদ শেখের সন্তান। গত রোববার বিকেলে খেলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মিনহাজুল পড়াশোনা করত না। সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে খেলা ছাড়া কেউ গাছের ফল পাড়তে বললে সে তাৎক্ষণিকভাবে তা করত। গত রোববার বিকেলে খেলাধুলা করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর আজ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছে মাল্টাবাগানের সংলগ্ন ধানক্ষেতের কিছু লোক তার ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পেয়ে সবাইকে জানায়।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিনহাজুলের বাড়ির সামনে রাস্তায় শতাধিক মানুষ ভিড় জমিয়েছে। তারা মিনহাজ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মিনহাজের মা আহাজারি করছেন, এবং অনেকে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় উপস্থিত অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তদন্তের মাধ্যমে মিনহাজ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছেন।
মিনহাজের বন্ধু সুমন শেখ জানান, “রোববার বিকেলের আগে পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে ছিলাম। বাগান থেকে কিছু মাল্টা এনে, বিকেল চারটার দিকে মিনহাজুল আবার বাগানে যাওয়ার কথা বলে। আমি না রাজি হলে সে তার জুতা ও কিছু ফল আমার কাছে রেখে চলে যায়। এরপর সে আর ফিরে আসেনি।”
মিনহাজের মা খাদিজা বেগম কান্নাকাটি করে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “মুক্তার সরদারের মাল্টাবাগানে আমার ছেলে গিয়েছিল, সেখান থেকে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আমি বারবার তাদের কাছে বাগানে ঢোকার গেটের চাবি চেয়েছি, কিন্তু তারা দেননি। ছেলের খোঁজ না পাওয়ায় আমরা এলাকায় মাইকিং করেছি। তারা আমার ছেলেকে বাগানের ভেতর মেরে গুম করে রেখেছে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাল্টাবাগানটি মিনহাজুলের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ পূর্বে অবস্থিত কৃষিজমির মধ্যে। চারপাশে ধানখেত রয়েছে এবং খেতের মাঝে মিশ্রিত ফলের বাগান রয়েছে। বাগানের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা, এবং প্রবেশ করতে একটি লোহার তৈরি গেটে সাদা কাগজে লেখা রয়েছে, “এই বাগানটির চারপাশে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, দয়া করে কেউ বাগানে প্রবেশ করবেন না।”
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাল্টাবাগানে প্রবেশ করতে গিয়ে কাঁটাতারের বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে মিনহাজুলের মৃত্যু হয়েছে। লাশটি বাগানের পাশে ধানখেত থেকে ক্ষতবিক্ষত এবং পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে, এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।